লন্ডন : রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:০৭ অপরাহ্ন

জ্বালানি সংকটের মুখে ঈদযাত্রা


প্রকাশ: ১৪/০৩/২০২৬ ০৬:০২:৪৩ অপরাহ্ন

ইতোমধ্যে ঈদুল ফিততের ঈদের ছুটির ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। বিক্রি হয়েছে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। যানজটের ভয়ে অনেকে ছুটছেন বাড়ির পথে।


এমন যখন পরিস্থিতি ঠিক তখনই চিন্তা জ্বালানি তেল নিয়ে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনছে সরকার। জ্বালানি সংকটের জেরে পরিবহন খাতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।


যদিও সরকার থেকে বারবার বলা হচ্ছে, জ্বালানির সংকট নেই। তবে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। পাম্পগুলোতে তেল না পেয়ে যেতে পারছে না যানবাহন। জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে।


এতে করে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, আজ শনিবার (১৪ মার্চ) রেশনিংয়ের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাতে পারে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।


রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দেওয়ার কারণে অনেক পরিবহন মালিক ও চালক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, কিছু পাম্পে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।


পরিবহন মালিকরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে এ সময় যানবাহনের চাপ বাড়ে। কিন্তু, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল না থাকলে স্বাভাবিকভাবে পরিবহন চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। এতে যাত্রী পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।


এদিকে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।


এর মধ্যেই ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবারের ঈদযাত্রায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতার প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে দূরপাল্লার বাস চলাচলে। পরিবহন মালিকদের মতে, পাম্পে রেশনিং এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক বাস সময়মতো জ্বালানি পাচ্ছে না।


এতে কিছু যানবাহন বন্ধও রাখতে হচ্ছে। একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বহরের কয়েকটি বাস জ্বালানি সংকট ও পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে নির্দিষ্ট দিনে চলাচল করতে পারেনি।


পরিবহন মালিকদের দাবি, বর্তমানে অনেক পাম্পে একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে দূরপাল্লার বাসের ট্যাংক পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং পথে অতিরিক্ত সময় নিয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে।


এতে বাসের নির্ধারিত শিডিউল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে ঈদে যাত্রীচাপ বাড়ার সময় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প কতৃপক্ষ বলছে, আশঙ্কা তো থেকেই যাচ্ছে। সরকার মুখে বলছে তেলের সংকট নাই, কিন্তু বাস্তবে তো ৯ হাজার লিটার তেল চাইলে তেল দিচ্ছে চার লিটার। পাম্পে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। কারণ, আগে থেকেও অপেক্ষায় থাকা শত শত যানবাহন। এরপর তেল না পেয়ে আমাদের ওপর ক্ষেপে যাচ্ছে। মবের ভয়ে অনেকে পাম্প বন্ধ করে বসে থাকছে।


সম্প্রতি এক বাস মালিক অভিযোগ করেন, তার বাস সিলেট গিয়ে এখনও বাস নিয়ে ফিরতে পারেনি চালক। কারণ তেল পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তাহলে ঈদের লম্বা জার্নিতে ভোগান্তি হবার শঙ্কাই বেশি। সরকারের উচিত আজ-কালকের মধ্যেই এ বিষয় সমাধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া।


কালকের (রবিবার) মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে ঈদের যাত্রা কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার বলছে, তাদের সংকট নেই। কিন্তু, ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা রেশনিং করছে। অন্তত ঈদের সময় যাতে যাত্রীদের কোনও ভোগান্তি না সেটি বিবেচনা করে রেশনিং আপাতত বন্ধ করা বা হলে ভোগান্তি চরম আকার নেবে।


পাম্পে ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘসারির কারণে তেল নিতে বাড়তি দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। ঈদে বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়বে।


শুধু বাস আর ব্যক্তিগত গাড়ি নয় চাপ পড়েছে লঞ্চ স্টিমার এবং স্পিডবোটের উপরেও। চাহিদা মতো ডিজেল ও অকটেন না পেয়ে তারাও শঙ্কায় ঈদ যাত্রা নিয়ে।


লঞ্চ মালিকরা বলছেন, তেল না পাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে সব লঞ্চ বা স্টিমার ছাড়া যাচ্ছে না। বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি চালক, সহকারী, টিকিট মাস্টার ও লাইনম্যানসহ প্রায় দেড় শতাধিক কর্মীও কার্যত শঙ্কায় পড়েছেন। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে ট্রলার ও লঞ্চে, যা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে।


আরও পড়ুন